ভ্যান-এ শাকসবজি বিক্রি
বিক্রেতারা ভ্যান-এ করে প্রয়োজনীয় শাকসবজি মানুষের বাড়ি বাড়ি নিয়ে বিক্রি করে। এর ফলে মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় শাকসবজি যেমন ঘরে বসেই কিনতে পারে তেমনি এটিকে কেন্দ্র করে কিছু মানুষও ব্যবসা করার সুযোগ লাভ করে। আগ্রহী যে কেউই অল্প পুঁজি নিয়ে এই ব্যবসা শুরু করতে পারেন। এক্ষেত্রে বিক্রেতারা বাজারের তুলনায় অপেক্ষাকৃত একটু কম দামে সবজি বিক্রি করতে পারে। কারণ বাজারের ঘর ভাড়া দিতে হয় না।
আধুনিক জীবনযাত্রার কারণে বর্তমানে মানুষ অনেক বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন বাজারে গিয়ে বাজার করা অনেকের কাছেই ঝামেলার কাজ বা সময়ের অপচয় বলে মনে হয়। মানুষের এই সমস্যার সমাধান করে দিয়েছে ভ্যান-এ শাকসব্জি বিক্রেতারা। বিক্রেতারা ভ্যান-এ করে প্রয়োজনীয় শাকসবজি মানুষের বাড়ি বাড়ি নিয়ে বিক্রি করে। এর ফলে মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় শাকসবজি যেমন ঘরে বসেই কিনতে পারে তেমনি এটিকে কেন্দ্র করে কিছু মানুষও ব্যবসা করার সুযোগ লাভ করে। আগ্রহী যে কেউই অল্প পুঁজি নিয়ে এই ব্যবসা শুরু করতে পারেন। এক্ষেত্রে বিক্রেতারা বাজারের তুলনায় অপেক্ষাকৃত একটু কম দামে সবজি বিক্রি করতে পারে। কারণ, এক্ষেত্রে ঘর ভাড়া দিতে হয় না। তবে একটি ব্যক্তিগত মালিকানার ভ্যানের প্রয়োজন আছে।
বাজার সম্ভাবনা
আজকাল সবখানে বিশেষ করে ছোট বড় উপজেলা, জেলা শহরে শাকসবজি বিক্রেতারা ভ্যান-এ করে শাকসবজি বিক্রি করে। ব্যস্ততার কারণে শহরের মানুষ প্রতিদিন বাজারে গিয়ে শাকসবজি কিনতে পারে না। তাই শহরের ক্রেতারা অনেকাংশে শাকসবজি বিক্রেতাদের উপর নির্ভরশীল। গ্রামেও অনেকে শাকসবজি উৎপাদন করে ভ্যান-এ করে বিক্রি করে থাকে।
মূলধন
ভ্যান-এ শাকসবজি বিক্রয়ের জন্য স্থায়ী উপকরণ কিনতে ৭৩০০ থেকে ৮৩৬০ টাকার প্রয়োজন হবে। এছাড়া প্রতিদিন শাকসবজি কেনার জন্য ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা প্রয়োজন হবে। যদি ব্যক্তিগত পূঁজি না থাকে তাহলে মূলধন সংগ্রহের জন্য নিকট আত্মীয়স্বজন, ঋণদানকারী ব্যাংক বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের (এনজিও) সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে। এসব সরকারি, বেসকারিব্যাংক ও বেসরাকারি প্রতিষ্ঠান (এনজিও) শর্তসাপেক্ষে ঋণ দিয়ে থাকে।
প্রশিক্ষণ
ভ্যান-এ শাকসবজি বিক্রি শুরুর আগে এ ব্যবসায় অভিজ্ঞ কারও কাছ থেকে জরুরি তথ্যগুলো জেনে নিলে ব্যবসা শুরু করা সহজ হবে। কোন এলাকায় বিক্রি ভালো হয়, কোন সবজির চাহিদা বেশি থাকে, কোন জায়গা থেকে পাইকারী দামে সবজি বিক্রি করা যায়, এইসব তথ্য জানা থাকলে সহজেই ব্যবসা শুরু করা সম্ভব হবে।
প্রয়োজনীয় উপকরণ, পরিমাণ, মূল্য ও প্রাপ্তিস্থান
§
স্থায়ী উপকরণ
উপকরণ
|
পরিমাণ
|
আনুমানিক মূল্য (টাকা)
|
প্রাপ্তিস্থান
|
ভ্যান
|
১টা
|
৭০০০-৮০০০
|
অর্ডার দিয়ে তৈরি করতে করে নিতে হয়
|
দাঁড়িপাল্লা ও বাটখারা
|
১ সেট
|
২৫০-৩০০
|
হার্ডওয়ারের দোকান
|
ঝাঁকা
|
২টা
|
৫০-৬০
|
মুদি দোকান
|
মোট=৭৩০০-৮৩৬০ টাকা
|
|||
তথ্যসূত্র : মাঠকর্ম, ধানমন্ডি, ঢাকা, সেপ্টেম্বর ২০০৯
§
কাঁচামাল
* শাকসবজি কেনার জন্য প্রতিদিন ১৮০০-২০০০ টাকা বিনিয়োগ করার প্রয়োজন হতে পারে।
বিক্রি করার নিয়ম ও প্রয়োজনীয় কিছু নির্দেশনা
1.
কোন এলাকায় শাকসবজি বিক্রি করা হবে বিক্রিকারী সেটা আগে থেকেই ঠিক করে রাখলে ভালো হয়।
2.
প্রথমে বিক্রেতাকে একটা ভ্যান কিনে নিতে হবে বা ভাড়া নিতে হবে। তারপর তাকে খোঁজ নিতে হবে কোথায় পাইকারী দামে টাটকা শাকসবজি বিক্রি করা হয়। পাইকারী দামে শাকসবজি কিনলে দামে একটু কম পাওয়া যাবে। ফলে লাভ বেশি হবে।
3.
শাকসবজি কেনার সময় দেখতে হবে সেগুলো যেন টাটকা এবং সম্ভব হলে সেদিনের তোলা হয়। ফলের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক উপায়ে যেগুলো পরিপক্ক হয়েছে সেগুলো কিনতে হবে। রঙ দেয়া বা জাঁক দেয়া ফলমূল কেনা উচিত না। টাটকা ও তরতাজা শাকসবজি বিক্রি করলে বিক্রি ভালো হবে এবং ক্রেতারা সবসময় এই বিক্রেতার কাছ থেকে শাকসবজি কিনতে আগ্রহী হবে।
4.
শাকসবজিগুলো বিক্রি করার আগে যতটুকু সম্ভব পরিস্কার করে নিতে হবে এবং ভ্যান-এ সুন্দর করে সাজিয়ে নিতে হবে।
5.
দাঁড়িপাল্লা ও বাট খারার সাহায্যে সঠিক মাপে শাকসবজি মেপে বিক্রি করে পরিস্কার কাগজের প্যাকেটে দিতে হবে।
6.
ভাংতি টাকা রাখা জরুরি। তাহলে ক্রেতা বা বিক্রেতা কাউকেই ঝামেলায় পড়তে হবে না। বিক্রেতা যদি বড় একটি পলিথিন রাখে তাহলে ভালো হয়। কারণ বৃষ্টি আসলে শাকসবজিগুলো ঢেকে রাখতে হবে।
7.
বিক্রেতাকে শাকসবজি কেনার সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন খুব বেশি বা কম পরিমাণের কেনা না হয়। দ্রুত পচনশীল শাকসবজি অল্প পরিমাণে কিনতে হবে। অবশ্য সপ্তাহখানেক বিক্রি করলে বুঝা যাবে কোন শাক-সবজির চাহিদা কেমন। সেই অনুযায়ী শাকসবজি কিনতে হবে।
8.
গ্রামের কৃষকেরাও তাদের নিজের জমিতে উৎপাদিত শাকসবজি এই উপায়ে বিক্রি করতে পারেন।
9.
বিক্রয়ের আগে বাজার দর সম্পর্কে জানতে হবে। খুব বেশি দাম চাইলে ক্রেতারা কিনতে আগ্রহী হবে না। আবার কম দাম চাইলে লাভ হবে না।
10.
সব ধরণের ক্রেতার চাহিদা পূরণ করার জন্য সবরকম সবজি ভ্যানে রাখতে হবে।
1.
সঠিক পরিমাণে শাকসবজি কিনতে হবে। কারণ খুব বেশি শাকসবজি যদি বিক্রি না হয় তাহলে সেটা নষ্ট হবে।
2.
বাজার দর সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকতে হবে।
3.
যে সব শাকসবজির চাহিদা বেশি সেগুলো বেশি পরিমাণে রাখলে ভালো হয়।
4.
সব-সময় টাটকা শাকসবজি বিক্রি করার প্রচেষ্টা থাকতে হবে।
আয় ও লাভের হিসাব
|
এছাড়া বিনিয়োগ ও বিক্রয়ের উপর লাভ ক্ষতি নির্ভর করে। অনেক সময় জিনিসপত্রের দাম উঠানামা করে। তাই এই ক্ষেত্রে এখানে যে হিসাবটি দেখানো হয়েছে সেটি শুধুমাত্র ধারণা দেওয়ার জন্য। নিজের মতো কম দামে স্থায়ী উপকরণ ও কাঁচামাল কিনে, বেশি টাকা বিনিয়োগ করে ভ্যান-এ শাকসবজি বিক্রি করা শুরু করা যাবে।
প্রশ্ন ১ : ভ্যান-এ কোন ধরণের শাকসবজি বিক্রি করা হয় ?
উত্তর :
ভ্যান এ করে মূলত মৌসুমী ও যে সব শাকসবজি সারাবছর পাওয়া যায় সেগুলো বিক্রি করা হয়।
প্রশ্ন ২ : ভ্যান- এ শাকসবজি বিক্রি করার জন্য স্থায়ী উপকরণ কিনতে কত টাকার প্রয়োজন হবে ?
উত্তর :
স্থায়ী উপকরণ কিনতে ৭৩০০ থেকে ৮৩৬০ টাকার প্রয়োজন হবে।
প্রশ্ন ৩ : ব্যবসা শুরু করার জন্য মূলধনের প্রয়োজন হলে কি করতে হবে ?
উত্তর :
যদি ব্যক্তিগত পুঁজি না থাকে তাহলে মূলধন সংগ্রহের জন্য নিকট আত্মীয়স্বজন, ঋণদানকারী ব্যাংক বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের (এনজিও) সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে।
কৃতজ্ঞতা স্বীকার
ভ্যানে শাক-সব্জি বিক্রি ব্যবসা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকার ধানমন্ডি এলাকার ভ্যানে শাকসবজি বিক্রেতা মো. মফিজ মোল্লার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে।
কাজে কোনো লজ্জা নাই,অভাবে পরলে মানুষ কি না করে। তবে সৎ পথে এটার চেয়ে ভাল কিছু হয়না।
Comments
Post a Comment